![]() |
| জলপিপি |
এটি
আমার নদী,
আমি__
ছুঁয়েছি এর জল,
ভেসেছি এর স্রোতে,
শুনেছি এর__
চুপকথা,
বেদনা,
বা,
স্বপ্ন গুলো।
আমি বসে বসে
মুখস্থ করেছি__
এ নদীর কল্লোল,
নীল জলের কাব্য,
তাই কি আমি
এ নদীর পাখি —
জলপিপি…?
#সুধা রহমান
![]() |
| স্টেশনের শেষ ঘন্টা |
স্টেশন বললেই ---
রেল চলে যাবার পর
কেমন যেন শান্ত, স্থির।
দু 'একটা রেল এলে
ব্যস্ততা, বাকি সময়
অলস ষ্টেশন মাস্টার ঘুমে,
চা কাপে টুং টাং...
আমার কেবলি মনে হয়
ভুল করে নেমে পড়ি এমন ষ্টেশনে।
আর,
আমার চুল থাকবে পনিটেইল ,
হাতে নীল সাদা কারুকাজ করা ব্রেসলেট,
সরু চেইনে লম্বা লকেট।
কারো মনে হবে
অপূর্ব এক যাত্রী -----
হাসিতে আমার
শঙ্খ ঝরে যদি
তবে শিখে নিবো
তুকতাক যাদুবিদ্যা।
তাতে ধরা পড়ুক
গোলাপী কভারে মোড়া
ছোট টপস পরা ভাঁজ খাওয়া
আমার কানের কোন রহস্য
বা
ফিসফাস কথামালা
তখন,
টোল পড়া গালে
আলোড়িত হবে কি
আমার স্বপ্নগুলো,
ভরে যাবে কি প্রিয়
জারুল তলা
বকুল তলা?
পৌরণিক মন্দিরে
বেজে উঠবে কি ঘন্টা?
তারপর-----?
#সুধা রহমান
![]() |
| স্মৃতির বোঝা |
আজ অলস্য বিকেলে বহুযুগ পর মনে হলো
নিজের সাথে এই বৃষ্টিবিকেলে কম্বল মুড়িয়ে গল্প করলাম।
কত কথার ঝাঁপি,কত মুখ,কত প্রিয়জনের গল্প হলো..
সাথে হলো পুরাণ লেখার সাথে বোঝাপড়া,
অনেক দিনের অযত্নে ওরাও কেমন ভুলতে বসেছে আমাকে।
বসে বসে পুরানো লেখা পড়ছি,
অনেকটা ডাইরি পড়ার মত করে।
অনেক পাতাই মনে হয় অস্পষ্ট,
অনেক মুখ মনে পড়ে না......
নকশা আঁকা ডাইরির ঠাসবুননে আমার পেন্সিলে লেখাগুলো
কোথাও কোথাও কার্বন কালো।
কষ্টের ছোপছোপ দাগের মত।
পরিবর্তন,
পরিস্থিতি,
অযত্ন,
হেয়ালিপনায় আমার আঁলপনাময় ডাইরিগুলোও
আজ মন খারাপ আর বিষন্ন।
বোধহয়,
ডাইবির উত্তরাধিকারকে ডাইরিগুলো দেবার সময় এসেছে...
#সুধা রহমান
![]() |
| ডানায় নীল স্বপ্ন |
একটি দোয়েল শিস দিয়ে
গান গেয়ে গেল --
ঠিক গান নয় আনন্দগীত
হয়তো ফিরেছে প্রিয়জন
নবান্নের রোদে তারেই আয়োজন --
দোয়েলের ডানায় নীল স্বপ্ন
পরিয়ায়ী পাখি আসায় আনন্দ,
তবে কি __
কবিতা হবে কাব্য?
কিংবা,
একান্ত ছুঁয়ে থাকার মুহূর্ত
অনেকটা__
কবিতায় কবিতায়
কবি ও কবিতার মত,
তবুও কেন এমন
শিশিরে গলে যায় আমার
ওবেলার স্বপ্নরা ----
#সুধারহমান
![]() |
| সহস্র শতাব্দীর ডাক |
জলে ভেসে যাওয়া সে নাম,
ফিরে আসে এই মেঘলা জানালায়।
আমি তোমাকে ভাবিনা, কোনদিন না।
আমি আমার অস্বিত্বে বাঁচি।
আমি তাই তোমাকে ভুলি না।
রুপার কাঠি, সোনার কাঠির অদলবদলে যেদিন
তোমার ঘুম ভাঙ্গবে,
সেই কৃষ্ণচূড়ায় থোকা ফুল পাবে।
একটা ঘর পালানো বিকেল পাবে।
আর সোডিয়ামের আলোয় ধোঁয়া উঠা এক কাপ চা।
কতো এলোমেলো শব্দের হাতছানি,
তোমায় ডেকে চলেছে সহস্র শতাব্দী ধরে,
ঘাসফুল মাড়িয়ে তোমার সভ্যতার পথে যাত্রা।
তুমি তোমাকে চিনে নিও।
খোলা আকাশের চোখে চোখ রেখে,
নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া চলুক।
তুমি গ্লাডিওলাসের সেই ফুলের ডাল হাতে,
আনমনে দাঁড়িয়ো,
আমি ঠিক চিনে নিবো।
তোমাকে, তোমার নিজস্ব ঘ্রাণে।
#সুধা রহমান
![]() |
| হারানোর দিনলিপি |
কতদিন আকাশ পারাবারে আমার বেড়ানো হয়না,
প্রসন্ন হাসিমাখা সকাল বা,বিকেল নির্জনতার ক্ষয়া অন্ধকারে
হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন,
গভীরভাবে তাই আকাশ দেখা হয়ে
ওঠেনা আমার।
ইতস্তত এক ছায়া নিয়ে আমি শুধু অহেতুক আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে থাকছি,
আর তাই আমার মাধবী বাগান অথবা ,মেঘের সিঁথান কেবল অনতিক্রম্য দূর সরে যাচ্ছে,
হৃদয় অন্ধকারে আলোজ্বলা হাসিটিকেও ফেলে এসেছি , কোন ঝর্ণাতলার নির্জনে।
দিশেহারা দিনগুলোতে আমি কেবল বারবার নিজেকে হারিয়ে ফেলছি প্রবল অস্পষ্টতায়।
চারিদিকে জীবনের কলোরবও, টের পাই না রক্তের উষ্ণতায়
আঁধারভাঙা নির্বাণ আলো কি জ্বলে না বুকের তোরঙে??
মাঝে মাঝে এক ঘোর ঘোর সকালে বা বিকালে তাকিয়ে দেখি, আকাশের তাকিয়া ছেয়ে আছে
নানান আশ্চর্য ভঙিমায়, কখনো,নিবিড় বাতিঘরের মত
কখনো,মেঘমল্লারের হাঁকডাক
কখনো,সিংহশাবকের চাউনিতে
কখনো নানা বিচিত্র নক্সায় ,ঘোর ঘোর মুগ্ধতায় আমি
আকাশ পানে তাকিয়ে ভাবি,
কোথাও বসে তুমিও কি দেখছ আকাশ???
#সুধা রহমান
![]() |
| অজানা আলোর টান |
মিলিয়ে গেছে বনাঞ্চলের আঁচলে,
এক পাতার জগতে,
এক অজানা আলো ডেকে নিয়ে যায়
সেই সবুজ পাতাময় সংসারে ,
সবুজ সতেজ পাতায় লেখা থাকে
শতেক শতেক কবিতা,
একান্ত বাতাসে পাতায় পাতায়
দুলে উঠে কবিতারা,
পাতায় পাতায় লেগে থাকে
সকালের শিশির,
লেগে থাকে কাঁচা রোদের ঘ্রান
অথবা,
কোন নক্ষত্রের প্রাণ ----
#সুধা রহমান
![]() |
| ভেজা শহরের গল্প |
শুধু পোড়ে....
এখানে জমানো যায় না কিছুই,
সব নষ্ট আর ভন্ড।
এখানে,
হাতের মাঝে হাত থাকে না
চোখ জুড়ে স্বপ্ন থাকে না।
তাই হয়তো __
টুপ বৃষ্টি
ঝুম মেঘের জন্য
মন কেমন আকুল ব্যাকুল।
যখন---
ছিপ বৃষ্টির শেষে
একটা সূর্য হাসে রঙে,
ওখান থেকে পেয়ে যাই
বাঁচার রসদ।
জমিয়ে আনি কিছু __
বৃষ্টি
রোদ্দুর
মেঘ
মাঝে মাঝে বের করি
আর,
যতনে রাখি যাতে টুপ করে
খসে না পড়ে
অশ্রুবিন্দু হয়ে....
#সুধা রহমান
![]() |
| গোধুলির প্রতীক্ষা |
বিকেলের শেষ আলো
একটু থাক,
প্রলম্বিত হোক আমার ছায়া
দীর্ঘ হোক তোমার আলোর মায়া,
ফিরতে দেরী হোক __
কোন মাছরাঙার,
প্রতীক্ষায় থাকুক কোন
তুলসী তলা।
ধানের ক্ষেতেও লাগুক হাওয়া,
শাড়ির আঁচলে জুড়ে খেলে যাক __
এমন রুপবতী সময়,
গোধুলীর ডাক,
কুয়াশার আহ্বান,
হয়তো তখন __
এমন বিলের জলে
পড়বে আমার ছায়া
চেয়ে থাকবে অমলিন চোখের মায়া,
মীনরা হেসে সাঁতার কাটবে
পুরো বিকেল বেলা,
জলচ্ছবির দিকে তাকিয়ে
আমিও কি তখন বলবো
গোধুলীর আলো __
আরো থাক
সন্ধ্যা তুমি বিলম্বে এসো
আমার উঠোনে....
#সুধা রহমান
![]() |
| অতলে একান্ত কিছু |
আমি পা দিতেই ভিজে গেল
আমার পায়ের পাতা।
তাহলে কি নদীরও দুঃখ আছে?
দু-কূল ছাপানো দুঃখ?
কিন্তু,
আমার হাতের পাতায় যে,
শাখা-প্রশাখায় হাজারো নদী,
তাই কি,
আমিও ভিজে যাই নানাবিধ কষ্টে?
জলজ আর আর্দ্র হয় আমার
চোখের পাতা?
তাই কি তন্বী নদীর মতো
বহমান আমার স্বপ্ন
আর কবিতারা....?
ফিরে আসুক
সেই লুকানো নদীটা
আমিও আর একবার ডুব দেই
হাজারো স্মৃতির অতলে
খুঁজে ফিরি __
একান্ত কিছু...
![]() |
| মুঠোভরা স্মৃতি |
রাঙা হয় না,
মগ্নতার পরাগে তাতে ছড়ায় না
ভালোবাসার আবীর,
আর, কাঞ্চন ফোটা গোলাপী নক্ষত্রের শুভ্র হাসির
তোড়ে ভেসে যায় না-
অনুরাগ,
অভিমান,
চলতি পথে বিবাগী হাওয়ারা শুধায় না-
কেন যাও?
ফিরে আসো__
তখন,
এমন গল্পটা হাতের মুঠোয় গুজিয়ে দিয়ে
বলতে ইচ্ছে করে না ,রেখে দাও...
কখনো কোন ফাগুনে ফিরলে,
ফিরে দিও
কিছু জমানো কথাকাব্য মিলে..
#সুধা রহমান
![]() |
নীল শাড়ির নদী |
সময়গুলো চিলের ডানায় ভর
করে পাড়ি দিচ্ছে দূরদেশ-
শীতলতায় নুব্জ যেখানে সব,
অগ্রহায়ণের হাসি তো সোনাঝরা,
তাতে পদ্যের ঝলকিত আলোয়,
চমকিত চোখে আলাপ হলে
হোক না ---
এ গ্রহে - সে গ্রহে
নক্ষত্র- তারায়,
চাইলেই মনে মনে পালানো যায়
গোটা পৃথিবী..
তবে, পালানোর আগে
আঁচলে নিতে ইচ্ছে করছে
কিছু আটলান্টিক নীল,
যেন,ছেড়ে দিতে পাড়ি-
চঞ্চলা যুবতী শীনের জলে।
শীন সাজবে- নীল শাড়িতে,
সময়ের হাত ধরেএকদিন
নদী হয়ে - যাবে নারী,
আটলান্টিক কে ভালোবেসে।
#সুধা রহমান
ইচ্ছেকথার শূন্যতা আমার, দুরন্ত স্বপ্নরা আজ বন্দী ভাসতে পারে না বিশুদ্ধ স্বপ্নের নদীতে, তাই কি? মায়াবী রাত পালিয়েছে অন্য শহরে? নক্ষত্রের বা...